এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও পূর্ণত মানবকল্যাণে নিবেদিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান মানবতার শিক্ষক, মানুষের মুক্তি ও শান্তির দূত, মানবসেবার আদর্শ, মহানবী মুহাম্মদ সা.-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইসলামিক ঋণ সেবা (কর্জে হাসানা), সমাজ সংস্কার, মহত্তম নীতিচেতনার সঞ্চার, কর্মসংস্থান তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন, যাকাত,ইসলামী তমদ্দুনের প্রসার প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে মহান আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের অনুকরণে সত্য ও শান্তির পথে ডেকে এনে একটি আদর্শ কল্যাণসমাজ বিনির্মাণে যথাশক্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মানুষের একার পক্ষে সবসময় সব প্রয়োজন পূরণ সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরকে সাহায্য করতে হয়। এই সাহায্যের নানা ধরন ও অনেক উপায় রয়েছে। একটি বড় উপায় ঋণ তথা করজ। বিভিন্ন কারণে মানুষ করজ নিয়ে থাকে। তার মধ্যে মূলতঃ দুটি কারণ বড়। ১. সাধারণ জীবন চলা তথা খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ইত্যাদির প্রয়োজনে করজ নেয়া। ২. ব্যবসা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ।
ঋণের ক্ষেত্রে সমাজে দু’টি অবস্থা লক্ষ করা যায়- সয়লাব ও সঙ্কট। অর্থাৎ সুদভিত্তিক ঋণের সয়লাব আর সুদবিহীন ঋণের সঙ্কট। একদিকে সামান্য প্রয়োজনেই ঋণগ্রহণ করে ফেলা হয়। বরং বিনা প্রয়োজনে ও গোনাহের কাজেও ঋণ নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঋণের উপর ঋণগ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে সত্যিকারের ঋণ বিরল। কঠিন বিপদেও তা কদাচিৎই পাওয়া যায়। একটা সফল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে এটা বড় প্রতিবন্ধক।
করজে হাসানা তথা ঋণের আদান-প্রদানের ব্যাপারে ইসলামে আছে কল্যাণকর নির্দেশনা। যার নিখুঁত চর্চা ও যথার্থ প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। এখানে ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতা উভয় শ্রেণির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা উল্লেখ করা হল।
এক. মানুষ মাত্রেরই অনেক প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনেরও রয়েছে বিভিন্ন স্তর এবং পূরণেরও নানা পথ। ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবিকই প্রয়োজন আছে কি না, থাকলে সেটা কোন্ পর্যায়ের, ঋণগ্রহণ ছাড়া অন্যভাবে পূরণ সম্ভব কি না এবং ঋণ গ্রহণ করলে সময়মত পরিশোধ করা যাবে কি না- এ বিষয়গুলো বিবেচনা করা অতি জরুরি। ক্ষেত্রবিশেষে মুরব্বীর সঙ্গে পরামর্শও করা যেতে পারে। বিশেষ প্রয়োজন এবং সময়মত পরিশোধের প্রবল ধারণা ছাড়া ঋণগ্রহণ জায়েয নয়। আর অপচয় ও অন্যায় কাজে ঋণ নেওয়া এবং ঋণকে জীবনের সাধারণ নিয়মে পরিণত করার তো প্রশ্নই আসে না। (এ আলোচনা শুধু সাধারণ ঋণ তথা সুদবিহীন ঋণ নেওয়া সম্পর্কে, সুদভিত্তিক ঋণ নেওয়া সম্পর্কে নয়)ঋণ একটা বোঝা।
কর্জে হাসানা 98 প্রতিষ্ঠানের কোন ধরনের ধর্মীয় কর্মসূচি কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নাই। মানব সেবার জন্য – এটা সকল ধর্মের এবং সকল মতাদর্শের মানুষদের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম। মহাজনী সুদখোর আর দাদন ব্যবসায়ীদের নিষ্ঠুরতার শৃঙ্খল থেকে সারাদেশের প্রান্তিক দরিদ্রদের সুরক্ষিত রেখে – লাখো মলিন মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে তাদের জীবনে সফলতার গল্প গাথা তৈরির এক অনন্য চিন্তা ধারা হচ্ছে – কর্জে হাসানা98 প্রতিষ্ঠান। ফাইন্যান্সিয়াল, ম্যানেজমেন্ট, প্রমোশনাল কিংবা ইন্টেলেকচুয়াল, সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসুন এবং হয়ে যান মায়াময় এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রার একজন সহযোদ্ধা!
“কর্জে হাসানা” শব্দটি আরবি। “কর্জ” অর্থ ঋণ বা সাহায্য, এবং “হাসানা” অর্থ ভালো বা উত্তম। অর্থাৎ, কর্জে হাসানা হলো “উত্তম ঋণ” বা “ভালো কাজের মাধ্যমে সাহায্য করা”। এটি এমন একটি কাজ, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয় এবং মানুষের উপকারে আসে।
কর্জে হাসানা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, বরং এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। ইসলামে সমাজের দুর্বল, গরিব এবং অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কর্জে হাসানার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়।